0%

বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র, মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশনকে নিশানা পিনারাই বিজয়নের

তিরুবনন্তপুরম, ৬ নভেম্বর : মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রায় ছয় মাস পর এবার নিজের উত্তরসূরি ভি ডি সতীশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা তথা কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত বিতর্কিত চুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজয়ন অভিযোগ করেন, দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করতে রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম বিদ্যুৎ সংকটের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

বিজয়নের দাবি, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে রাজ্যে বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। অথচ মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে সংকটের মুখে বলে তুলে ধরছেন। কেরল রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ (কেএসইবি) এবং বিদ্যুৎমন্ত্রীর অবস্থানের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের অমিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিজয়ন বলেন, বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে বিদ্যুৎ পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পিছনে অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাঁর প্রশ্ন, বিদ্যুৎ দপ্তর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ পর্ষদকে পাশ কাটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন সরাসরি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন?

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল দায়িত্ব বিদ্যুৎ পর্ষদের। পর্ষদের অবস্থানে কোনও ত্রুটি থাকলে সরকার তা চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারত। কিন্তু এ ধরনের কোনও আলোচনা বা হস্তক্ষেপ না করেই মুখ্যমন্ত্রী একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন। এতে মন্ত্রিসভার যৌথ দায়বদ্ধতার নীতিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের জবাব মুখ্যমন্ত্রী সন্তোষজনকভাবে দিতে পারেননি বলেও দাবি করেন বিজয়ন। জেনারেল নেটওয়ার্ক অ্যাকসেস (জিএনএ)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জিএনএ কোনও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা নয়, এটি মূলত একটি ডিজিটাল ওভার-দ্য-কাউন্টার প্ল্যাটফর্ম। তাহলে জিএনএ কার বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে, প্রকৃতপক্ষে কোন সংস্থা বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এবং এর সঙ্গে কোন মধ্যস্থতাকারীরা যুক্ত রয়েছেন, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনও দরপত্র আহ্বান করা হয়নি এবং স্বচ্ছ পদ্ধতিও অনুসরণ করা হয়নি। দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ কেনার জন্য কারা চাপ সৃষ্টি করেছিল, তা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানান তিনি।

বিজয়নের দাবি, কেএসইবি বিস্তারিত সমীক্ষা চালিয়ে জানিয়েছিল যে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির ফলে পর্ষদের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। সরকারের কাছে সমীক্ষার রিপোর্টে কোনও ত্রুটি রয়েছে বলে মনে হলে তা নির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল। কিন্তু সেই রিপোর্ট সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কেএসইবি-র পক্ষ থেকে কোনও সরকারি চিঠি পাঠানো হয়নি বলে মুখ্যমন্ত্রীর দাবিও খারিজ করেন বিজয়ন। তাঁর বক্তব্য, পর্ষদের পাঠানো সংশ্লিষ্ট চিঠি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে।

প্রাক্তন কেএসইবি চেয়ারম্যান তথা আইএএস আধিকারিক ভি রাজামানিকমের প্রশংসা করে বিজয়ন বলেন, তিনি একজন দক্ষ আধিকারিক ছিলেন। বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরা এবং চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার কারণেই তাঁকে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়াও, হিমাচল প্রদেশ থেকে বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাবের পক্ষে বিদ্যুৎমন্ত্রী সানি জোসেফ সরকারি নথিতে একটি নোট লিখেছিলেন বলেও দাবি করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেরলের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker