‘আরও ৩০-৪০ উইকেট পেত,’ শামির টেস্ট বিদায়ে নির্বাচকদের তোপ শাস্ত্রীর, মনখারাপ ভারতের কোচেরও

টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন মহম্মদ শামি। শুক্রবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় বার্তায় লাল বলের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তারকা পেসার। সাম্প্রতিক সময়ে, তাঁকে টেস্ট দলে ফেরানোর দাবি উঠলেও বারবার বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন। আর শামির অবসরের পর নির্বাচকদের ধুয়ে দিলেন প্রাক্তন কোচ ও ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী। অন্যদিকে ভারতের বর্তমান বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন শামির বিদায়ে।
মর্কেল বলেন, “আমি ভাগ্যবান যে শামির মত বোলারদের নিয়ে কাজ করতে পেরেছি। ও অত্যন্ত দক্ষ খেলোয়াড়। আমি যখন ভারতীয় দলে যোগ দিই, তখন ওর কথাবার্তায় ভারতীয় ভাষার ঝলক থাকত। সবার সঙ্গে মিশে যেতে ও আমায় সাহায্য করেছে। তাই তাকে অবসর নিতে দেখা আমার জন্য খুবই দুঃখের। তবে এখনও ঘরোয়া ক্রিকেটে বল করছেন, সেটা দেখতে ভালো লাগে।” গৌতম গম্ভীর হেড কোচ হওয়ার পর মর্কেলকে নিয়ে আসেন। তাঁদের অধীনে শামি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছেন। তবে টেস্ট খেলেননি।
কেন খেলেননি, তার উত্তর সম্ভবত সবচেয়ে ভালো দিতে পারবেন প্রাক্তন নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর। ফিটনেসের যুক্তিতে শামিকে আর দলেই নেওয়া হয়নি। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করেছেন, উইকেট তুলেছেন। তবু কেন ব্রাত্য থাকলেন? সেই নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ শাস্ত্রী। তাঁর কোচিংয়েই টেস্টে দীর্ঘ সময় খেলেছেন শামি। শাস্ত্রী বলছেন, “ও এখনও টেস্টে ৩০-৪০ উইকেট তুলতে পারত। আরও একবছর খেলতে পারত। এত ভালো একজন বোলারকে সরে যেতে দেখে খারাপ লাগে। আমি শুনেছি, ওর নাকি ফিটনেস ভালো নয়। তাহলে বাংলার হয়ে কীভাবে ১৫-২০ ওভার করে? একজন প্লেয়ার আর কীভাবে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করবে? আমি খুব হতাশ যে শামিকে আরেকবার সুযোগ দেওয়া হল না।”
২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেক হয় শামির। টুপি নম্বর ছিল ২৭৯। তারপর ২০২৩-র বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল পর্যন্ত ভারতের জার্সিতে টেস্ট খেলেছেন। ৬৪ ম্যাচে ২২৯ উইকেট আছে তাঁর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জায়গা হচ্ছিল না। যদিও শামি জানিয়েছেন, সাদা বলের ক্রিকেটে খেলবেন। অর্থাৎ বাংলার জার্সিতে সাদা বলের টুর্নামেন্টে ও আইপিএলে তাঁকে দেখা যাবে। কিন্তু বাংলার হয়ে আর রনজি খেলবেন কি না নিশ্চিত নয়। এরপর রনজিতে বাংলার ম্যাচ পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে।
শেয়ার
লিংক



