নির্বাচনের আগেই পাকিস্তান যাত্রা ভারতের মুখ্যমন্ত্রীর? মোদী সরকরের কোর্টে বল মানের

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের বিদেশ দফতর সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে(Bhagwant Mann)। তারা বলেছে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান যদি লাহোর যেতে চান, তাহলে তাঁকে ভিসা দেওয়ার বিষয়টি…
নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের বিদেশ দফতর সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে(Bhagwant Mann)। তারা বলেছে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান যদি লাহোর যেতে চান, তাহলে তাঁকে ভিসা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ২৭ নভেম্বর লাহোরে বিশ্ব পাঞ্জাবি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেখানেই আমন্ত্রণ পেয়েছেন মান।
কয়েক সপ্তাহ আগে পঞ্জাব বিধানসভায় মান নিজেই বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সম্মেলনের আয়োজকরা তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অনেক কবি-সাহিত্যিক সেখানে যাবেন। তিনিও যেতে চান। কারণ দুই পাঞ্জাবের সংস্কৃতি এক।
আরও দেখুনঃ ফের দেশের মানচিত্র বদলের হুঙ্কার বিজেপি সাংসদের
সমস্যাও অনেকটা একই রকম। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কি তাঁকে যেতে দেবে? জাপান বা ফ্রান্সেও তো আগে অনুমতি মেলেনি। বিশেষ করে ২০২৭ পঞ্জাব নির্বাচনের আগে মানের এই সফর ঘিরে তৈরী হয়েছে অনেক বিতর্ক এবং সন্দেহ।
পাকিস্তানের বিদেশ দফতরের মুখপাত্র সজ্জাদ হায়দার খান সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, মান যদি যেতে চান, তাহলে ভিসা ইস্যু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে ভারত সরকার তাঁকে যেতে দেবে কি না, সেটা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। অর্থাৎ পাকিস্তান ভিসা দিতে রাজি হলেও ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক ছাড়পত্র ছাড়া কোনো সরকারি সফর সম্ভব নয়।
এই ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথে এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে। (Bhagwant Mann)দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। পাঞ্জাবি ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন দুই পাঞ্জাবকে কাছাকাছি আনতে পারে। বিশ্ব পাঞ্জাবি সম্মেলন এমন একটি মঞ্চ যেখানে কবি, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীরা একত্রিত হন।
অন্যদিকে অনেকে সতর্কও করছেন। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে জটিল। সীমান্ত উত্তেজনা, সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর ভালোভাবে নেবে না ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সফর হয় না। আগেও মানের বিদেশ সফরে কেন্দ্রীয় সরকারের আপত্তি উঠেছে।
মান নিজে বারবার বলেছেন, সংস্কৃতি এক। তিনি কার্টারপুর করিডর খুলে দিলে সমগ্র পাঞ্জাব বিধানসভার সদস্যদের নিয়ে সেখানে যেতে চান। সেই ইচ্ছাও তিনি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যে কোনো সরকারি সফরের জন্য কেন্দ্রের অনুমতি বাধ্যতামূলক।(Bhagwant Mann) পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা ধর্মীয় তীর্থযাত্রীদের ভিসা দিতে আগ্রহী। গত বছর হাজার হাজার ভারতীয় তীর্থযাত্রীকে ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। এখানে কূটনীতি ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত।
এখন বলটি ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের কোর্টে। মান যদি সত্যিই যেতে চান, তাহলে তাঁকে প্রথমে কেন্দ্রের কাছে ছাড়পত্র চাইতে হবে। পাকিস্তান ভিসা দিতে রাজি থাকলেও ভারতের অনুমতি ছাড়া সফর সম্ভব নয়। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কথা যতই বলা হোক, দুই দেশের সম্পর্কের বাস্তবতা উপেক্ষা করা যায় না।



