রাজ্যে চালু হোমস্টে পোর্টাল, ‘হোমস্টে’ শব্দ ব্যবহারে প্রয়োজন রেজিস্ট্রেশনের, কীভাবে করবেন?

অবশেষে রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। চালু হয়েছে নতুন অনলাইন হোমস্টে পোর্টাল। এরফলে অনলাইনেই হোম-স্টে মালিকরা সেলফ রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবেন। যে হোমস্টেগুলি রেজিস্টার্ড হবে একমাত্র তারাই ‘হোমস্টে’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে। রাজ্যের ওই পদক্ষেপে খুশি উত্তরের পর্যটন সংস্থাগুলি। যদিও তাদের বক্তব্য রেজিস্ট্রেশনের পর ওয়ার্কশপ ভীষণ জরুরি। কারণ, অনেকেই জানেন না পর্যটকদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কি জরুরি এবং নিরাপত্তার জন্য কোন বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।
পর্যটন মন্ত্রী জানান, রাজ্যে ৫ হাজার ৪৭৯টি হোমস্টে রয়েছে। সেগুলির কিছু সরকারি বিধিবদ্ধ, অনেকগুলোই নয়। সেটা চিহ্নিত করতে এই পোর্টাল।
রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, বিশ্ব পর্যটনের ডিজিটাল এজেন্ডার সঙ্গে পাল্লা দিতে এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো ভীষণ জরুরি হয়ে পড়েছে। ওই কারণে প্রযুক্তিভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই নতুন পোর্টালের উদ্বোধন করছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী। উত্তরের পর্যটন সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন থেকে এই দাবিতে সরব ছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, হোম-স্টে ইকো ট্যুরিজমের নতুন ভাবনা। গত তিন দশকে উত্তরের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি হোম-স্টে গড়ে উঠেছে। কিছু রেজিস্টার্ড হলেও বেশিরভাগ নথিভুক্ত নয়। সেখানে কি পরিকাঠামো, পরিষেবা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে পর্যটনদপ্তর জানে না। কিছু একটা দুর্ঘটনা অথবা পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ উঠলে হইচই শুরু হয়। ওই সমস্যা কাটাতে রাজ্যের সমস্ত হোম-স্টেগুলোকে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে কয়েক দফায় প্রশিক্ষণের দাবি জানানো হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই দাবি মেনে বৃহস্পতিবার রাজ্য পর্যটন দপ্তর অনলাইন হোমস্টে পোর্টাল চালু করেছে।
পর্যটন সংস্থা হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার রাজ বসু বলেন, “এটা অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ। আমরা অনেকদিন থেকেই বলে এসেছি হোমস্টেগুলোকে বিধিবদ্ধ করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। রাজ্য সরকার প্রথম পদক্ষেপ করেছে। এরপর কয়েকটি পর্যায়ে জেলা ধরে হোমস্টে কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বসে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।”
পর্যটন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনের জন্য হোমস্টে মালিকদের নিজস্ব তথ্য ও মোবাইল নম্বর দিতে হবে, যার ভিত্তিতে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড আসবে। লগ ইন করার পর পোর্টালে চাওয়া সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করার পাশাপাশি হোম-স্টের সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান বা লোকেশন ম্যাপ করতে হবে। ম্যাপে স্থান সুনির্দিষ্ট হওয়ার কারণে যে সমস্ত পর্যটক ঘুরতে আসবেন, তাঁরা সহজেই দেখতে পাবেন নির্দিষ্ট হোমস্টে কোথায়, আশপাশে কি রয়েছে এবং সেটি রাজ্য সরকার অনুমোদিত কি না। পর্যটন মন্ত্রী জানান, রাজ্যে ৫ হাজার ৪৭৯টি হোমস্টে রয়েছে। সেগুলির কিছু সরকারি বিধিবদ্ধ, অনেকগুলোই নয়। সেটা চিহ্নিত করতে এই পোর্টাল। এছাড়াও যে হোমস্টেগুলো রেজিস্টার্ড হবে একমাত্র তারাই ‘হোমস্টে’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে।
শেয়ার
লিংক



