দীপাবলিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কেনাকাটা! বিক্রি ৫ লক্ষ কোটি টাকার পণ্য, মুখে হাসি ব্যবসায়ীদের

বাংলা হান্ট ডেস্ক: প্রতিবছর দীপাবলির (Diwali 2026) আবহে দেশজুড়ে (India) বিপুল কেনাকাটা পরিলক্ষিত হয়। সেই রেশ বজায় রেখেই চলতি বছরেও সেক্ষেত্রে কোনও ব্যতিক্রম ঘটেনি। বরং, কেনাকাটার ক্ষেত্রে বৃদ্ধিও ঘটেছে। দীপাবলি উৎসবের মরসুম দিল্লি (Delhi) এবং সারা দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বিশাল ব্যবসায়িক সুযোগ নিয়ে এসেছে। অনুমান করা হচ্ছে যে, দীপাবলিতে কেনাকাটা এবং অন্যান্য পরিষেবার মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা হবে। অন্যদিকে, গত এক মাস ধরে বিক্ষোভ ও মিছিলের সঙ্গে লড়াই করে আসা দিল্লির ব্যবসায়ীরাও দদীপাবলির কেনাকাটা নিয়ে বেশ আশাবাদী। শুধুমাত্র দিল্লিতেই দীপাবলির সময়ে ৮০,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
দীপাবলিতে (Diwali 2026) দেশজুড়ে ব্যাপক কেনাকাটা!
জানিয়ে রাখি যে, চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি তথা CTI-র চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল জানিয়েছেন যে, একটি হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে দীপাবলির উৎসবের আবহে ৫ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অটোমোবাইল সেক্টরের শীর্ষ সংস্থার প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, গাড়ির মোট খুচরো বিক্রি ব্যাপক হারে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল প্রকার যানবাহনের মধ্যে ২ চাকার, ৩ চাকার, বাণিজ্যিক যানবাহন, ব্যক্তিগত যানবাহন এবং ট্রাক্টরের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৫২ শতাংশ, ১১০ শতাংশ, ৪৮ শতাংশ, ৭০ শতাংশ এবং ৫৮ শতাংশের উচ্চ বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই পরিসংখ্যান দীপাবলির সময়ে প্রত্যাশিত শক্তিশালী ব্যবসার প্রতিফলন ঘটায়।
উল্লেখ্য যে, একটি অনুমান অনুযায়ী, দীপাবলির আবহে ছোট থেকে শুরু করে দামি জিনিসপত্রসহ প্রায় ৫ কোটি উপহার বিনিময় হয়। যা সামগ্রিকভাবে এই উৎসবের মরসুমে বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। হোটেল ও ব্যাঙ্কোয়েট অ্যাসোসিয়েশন, রেস্তোরাঁ ও মল অ্যাসোসিয়েশন থেকে শুরু করে শপিং সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন, সিনেমা অ্যাসোসিয়েশন, গাড়ি ডিলার অ্যাসোসিয়েশন, মেকআপ ও সেলুন অ্যাসোসিয়েশন, ট্যুর ও ট্র্যাভেল অ্যাসোসিয়েশন, বাজার অ্যাসোসিয়েশন, শিল্প সমিতি ইত্যাদির সঙ্গে কথা বলার পর CTI এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, এই দীপাবলির মরসুমে সারাদেশে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।
আরও পড়ুন: ২০১৮ সালে বল টেম্পারিংয়ে যুক্ত ছিল গোটা অস্ট্রেলিয়া দল! ৮ বছর পর বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া উসমান খোয়াজার
ইতিমধ্যেই CTI একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণভাবে এই বছর দীপাবলিতে ভারতীয় পণ্যের কেনাবেচার ওপর অধিক জোর দেওয়া হয়েছে। ভারতে তৈরি পণ্য, বিশেষ করে গৃহসজ্জার সামগ্রী থেকে শুরু করে দীপাবলির পুজোর সামগ্রী, মাটির প্রদীপ, দেওয়ালসজ্জা, হস্তশিল্প, দেব-দেবীর মূর্তি, শুভ লাভ এবং ওম-এর মতো ঐতিহ্যবাহী সৌভাগ্যের প্রতীক, দেবী লক্ষ্মী ও শ্রী গণেশের পুজোর সামগ্রী। এছাড়াও, স্থানীয় কারিগর, শিল্পী ও দক্ষ শিল্পীদের হাতে তৈরি গৃহসজ্জার সামগ্রীও সারা দেশের বাজারে ব্যাপক ব্যবসা পাবে।
আরও পড়ুন: পিছিয়ে পড়ল Jio! ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানির তকমা Airtel-এর কাছে, প্রথম স্থানে কে?
এছাড়াও, FMCG পণ্য থেকে শুরু করে ভোগ্যপণ্য, খেলনা, ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী, মিষ্টান্ন ও জলখাবার, গৃহসজ্জার সামগ্রী, বস্ত্র, রেডিমেড পোশাক, রান্নাঘরের সরঞ্জাম ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি, উপহার সামগ্রী, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলিতে ব্যাপক ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে।



